Thursday, September 17, 2026
spot_img
Homeইভেন্টদেশীয় প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মিলনমেলা শুরু

দেশীয় প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মিলনমেলা শুরু

দেশীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, আমদানিকারক, সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়তে ঢাকায় আবারও শুরু হলো  ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দ্বিতীয়বারের মতো তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যক সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। চলবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার পর্যন্ত।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এটি শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শন নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। সরকার দেশের ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশি সুরক্ষা শিল্পখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’’

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর মহা-সচিব জনাব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

বিসিএস মহাসচিব বলেন, ‘‘দেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও শিল্পায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও আরও জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়। মানুষের নিরাপত্তা, তথ্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অংশ।’’

তিনি বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষা শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়, এটি মানুষ, ব্যবসা ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এই প্রদর্শনীতে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি হবে।’’

আয়োজন নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মধু সুদন সাহা বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শিত হবে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট ও সংযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রদর্শনীটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। অন্যদিকে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো ২০২৬-তে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিভিন্ন আধুনিক সমাধান তুলে ধরা হবে।’’

আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর সহ-সভাপতি জনাব মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু। বিসিএসের সহসভাপতি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার গুরুত্বও বাড়ছে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা ভৌত সম্পদ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য, নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যবসা ও মানুষের নিরাপত্তাও এর অংশ।’’

তিনি বলেন, ‘‘অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মানুষ, ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। স্মার্ট নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দেশে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অসম প্রয়োগ ও প্রযুক্তির ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ। বিসিএস সরকার, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় করে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’’

আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মিস সাকি রেজওয়ানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উপপরিচালক (ঢাকা) জনাব মো. ছালেহ উদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিএস-এর যুগ্ম মহাসচিব জনাব মো. আহসানুল ইসলাম নওশাদ, কোষাধ্যক্ষ জনাব আবুল হাসান, পরিচালক জনাব  মো. ইকবাল হোসাইন এবং বিসিএস-এর সম্মানিত সদস্যবৃন্দ তথ্যপ্রযুক্তি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা।  

বক্তব্য শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে দ্বিতীয়বারের মতো তিনদিনব্যাপী আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’ আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন।

দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ দুটি প্রদর্শনীতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, ডিস্ট্রিবিউটর, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সেফটি প্রফেশনাল, ব্যবসায়ী, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, শুধু পণ্য প্রদর্শন নয়, আয়োজনে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সুরক্ষা খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং কার্যকর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, তিনদিনের এই আন্তার্জাতিক প্রদর্শনীতে আরও থাকছে  ‘অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক  প্রযুক্তি পণ্য প্রদর্শন করবে। যেমন, কর্মস্থলের অগ্নি নির্বাপক নিরাপত্তা  প্রযুক্তি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম, স্বাস্থ্য ও অগ্নি নিরাপত্তা  প্রযুক্তি, স্মার্ট সফটওয়্যার সল্যুশনস, সাইবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তির আধুনিক উদ্ভাবন, পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হবে। অত্যাধুনিক ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), নিরাপত্তা ক্যামেরা এবং অন্যান্য  নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সরঞ্জামাদি।  

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা কোম্পানি, ৫ শ’র বেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন।  

প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সেফটি খাতের পরিবর্তনশীল প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সে সম্পর্কেও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন।

বিনামূল্যে দুটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করা যাবে। আগ্রহীকে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো ২০২৬তে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে https://shorturl.at/oIL45 এই লিংকে। আর অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬তে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে https://shorturl.at/7Zcx5 এই লিংকে।

spot_img
আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

সর্বাাধিক পঠিত

spot_img