Thursday, September 3, 2026
spot_img
Homeটেলিকমবাংলালিংকের সততা ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত

বাংলালিংকের সততা ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত

নিজেদের কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতা, সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির চর্চা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। এ প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায়, ‘এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স স্টার্টস উইথ আস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্প্রতি ‘এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স উইক ২০২৬’ পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সপ্তাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি যে গুরুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করে, তাই পুনর্ব্যক্ত করেছে: স্থায়ী প্রবৃদ্ধি কেবল একটি সংস্থা কী অর্জন করে শুধুমাত্র তার ওপরই নির্ভর করে না, বরং কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিটি পর্যায়ে সেই লক্ষ্যগুলো কীভাবে অর্জিত হচ্ছে তার ওপরেও নির্ভর করে।

পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলালিংকের নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তা, কর্মী, ও ব্যবসায়িক অংশীদারেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলালিংকের পাশাপাশি এর মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের প্রতিনিধিদলও এ আয়োজনে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভিওনের গ্রুপ হেড অব এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, গ্যাব্রিয়েলা গুতিয়েরেজ, গ্রুপ হেড অব ইনভেস্টিগেশনস, সারওয়াত সালাউদ্দিন, ইন্টেরিম হেড অব কমপ্লায়েন্স কালচার অ্যান্ড এনগেজমেন্ট, দোভগুলিয়া সের্গেই ইগোরেভিচ এবং গ্রুপ ইনভেস্টিগেশনস সিনিয়র ম্যানেজার, আহসান মিন্টো।

আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রতিদিন কুইজ, বিষয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা, অংশগ্রহণমূলক আলোচনা এবং বিভিন্ন বিভাগে ‘ফ্লোর ওয়াক’ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলালিংকের নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তারা এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স  নীতিগুলো কীভাবে কর্মক্ষেত্রের প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত ও কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা যায়, তা তুলে ধরেন।

এছাড়াও, এ আয়োজনের  অংশ হিসেবে নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘লিডারশিপ রাউন্ডটেবিল’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায় থেকে সততা এবং নৈতিকতার চর্চার গুরুত্ব নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এরপর ‘সাইকোলজিক্যাল সেফটি’ অর্থাৎ কর্মীদের নিজেদের মতামত ও উদ্বেগ নিরাপদে প্রকাশের সুযোগ ও পরিবেশ, কমপ্লায়েন্স কালচার, বিভিন্ন কেস স্টাডি এবং বাস্তব পরিস্থিতি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই সপ্তাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল ‘সিইও ফায়ারসাইড চ্যাট’ অনুষ্ঠান। এ আয়োজনে উন্মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক আস্থা, নিজের মতামত ও উদ্বেগ নির্ভয়ে প্রকাশের সাহস এবং নৈতিক দ্বিধা মোকাবিলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় ফ্রন্টলাইন কর্মীদের পাশাপাশি ভিওনের প্রতিনিধিদলও অংশ নেন। এসব আলোচনায় দায়িত্বশীল আচরণ ও নৈতিক সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো পরিদর্শনেরও আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের গ্রাহক, খুচরা বিক্রেতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে ব্যবসা সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এ আয়োজন উপলক্ষে, প্রায় ৮০ জন দেশি-বিদেশি ব্যবসায়িক সহযোগী ও বাংলালিংকের অভ্যন্তরীণ অংশীজনেরা সম্প্রতি ‘বিল্ডিং ট্রাস্টেড অ্যান্ড রেসপনসিবল পার্টনারশিপস’ শীর্ষক একটি সেশনে অংশ নেন। সেশনটিতে ব্যবসায়িক সহযোগী এর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সততা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিয়মিত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ ভিওন ও বাংলালিংকের নেতৃত্বের সঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নেন। তারা নিজেদের  বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি আস্থাভিত্তিক ও টেকসই ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে করণীয় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনাতেও অংশগ্রহণ করেন।

এ আয়োজন নিয়ে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে বলেন, “বাংলালিংকে আমরা বিশ্বাস করি, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য শুধুমাত্র আমাদের অর্জনের মাপকাঠিতে নির্ধারিত হয় না, বরং আমরা কীভাবে সে সাফল্য অর্জন করছি, সেটাও আমাদের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স উইক’ আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী, নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং আমাদের ব্যবসায়িক সহযোগীদের এক যৌথ অঙ্গীকারের দিকে আহবান করেছে: নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের মতামত প্রকাশ করা এবং প্রতিটি কাজের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক দৃঢ় করা। এ  সপ্তাহ শেষ হয়ে গেলেও আমাদের এই অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে। আমরা দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সবার জন্য আরও উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব।”

ভিওনের গ্রুপ হেড অব এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স গ্যাব্রিয়েলা গুতিয়েরেজ গ্যাব্রিয়েলা গুতিয়েরেজ বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তারা যখন সামনে এগিয়ে আসেন, কর্মীরা যখন নির্ভয়ে নিজেদের কথা বলতে পারেন এবং সহযোগীরা যখন একই মানদণ্ড মেনে চলেন, নৈতিকতা কেবলমাত্র তখন প্রশিক্ষণের বিষয় হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সামগ্রিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার অংশ হয়ে ওঠে। ‘এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স উইক’ আমাদের এ উপলব্ধিকে আরও জোরদার করেছে।”

বাংলালিংকের চিফ এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার, মুনিরুজ্জামান শেখ বলেন, “প্রতিষ্ঠানের সবাই যখন প্রতিদিনের নেতৃত্ব, কাজ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও নিয়মানুবর্তিতাকে নিজেদের কাজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন, তখনই এসব বিষয় অর্থবহ ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ‘এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স উইক ২০২৬’ আমাদের মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলালিংক এবং এর এর বৃহত্তর পরিমণ্ডলে আস্থা ও স্বচ্ছতার পরিবেশকেআরও শক্তিশালী করে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

‘এথিকস অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স উইক ২০২৬’ এর মাধ্যমে বাংলালিংক নিজেদের কার্যক্রম, ব্যবসায়িক সহযোগীও বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য অবদানের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল আচরণকে মৌলিক নীতি হিসেবে অনুসরণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

spot_img
আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

সর্বাাধিক পঠিত

spot_img