Thursday, March 12, 2026
spot_img
Homeটেলিকমআন্তর্জাতিক নারী দিবসে সমতা ও অংশীদারিত্বের বার্তা বাংলালিংকের

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সমতা ও অংশীদারিত্বের বার্তা বাংলালিংকের

সপ্তাহজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। গত ৫ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত আয়োজিত এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতামূলক উদ্যোগ, বাংলালিংকের কর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও শিক্ষামূলক আয়োজন এবং কর্মীদের বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠান।

‘ফ্রম রাইটস টু রিয়েলিটি’ (‘অধিকার থেকে বাস্তবতায়’) এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এবং ‘সবার জন্য অধিকার ও ন্যায়বিচার ও কার্যকর উদ্যোগ’ এই আহ্বান সামনে রেখে আয়োজনগুলো অনুষ্ঠিত হয়। বাংলালিংকের কর্মী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। নারী অধিকার নিশ্চিতে নেওয়া উদ্যোগগুলোকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নারী দিবস উদযাপনের সূচনা হয় ৫ মার্চ। এ দিন অপরাজেয় বাংলাদেশ–এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলালিংক। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও মায়েদের সঙ্গে সময় কাটান।

এই কর্মসূচিতে প্রায় ৭৫ জন উপকারভোগী ও ২৫ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক শেখার পরিবেশ তৈরি করা হয়। এ আয়োজনে ছিল একটি সৃজনশীল চিত্রাঙ্কন পর্ব, যেখানে অংশগ্রহণকারী শিশুরা আশা, সমতা ও ক্ষমতায়নের নানা ভাবনা তুলে ধরে। এর পাশাপাশি একজন পেশাদার চিকিৎসকের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও সচেতনতা সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যচর্চা এবং ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

আয়োজনের অংশ হিসেবে বাংলালিংকের কর্মীরা একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকও মঞ্চস্থ করেন। সামাজিক কুসংস্কার, সচেতনতার ঘাটতি এবং বৈষম্যের কারণে নারীরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, সেই বিষয়গুলো নাটকে তুলে ধরা হয়। গল্পভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব, পারিবারিক সমর্থন এবং প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে তরুণীদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সপ্তাহের শেষ দিকে, ৯ মার্চ রাজধানীতে বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয় টাইগার্স ডেনে কর্মীদের নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস–এর করপোরেট আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির। তাঁরা অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র ও সমাজে কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ভাবতে অনুপ্রাণিত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলালিংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা রুহুল কাদের বলেন, “বাংলালিংকে আমরা বিশ্বাস করি, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ শুধু নীতিমালা তৈরির মাধ্যমে গড়ে ওঠে না, এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিত কার্যকর উদ্যোগ, সহমর্মিতা এবং একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে আমরা এ সংক্রান্ত আলোচনা ও মতবিনিময়কে উৎসাহিত করতে চাই, যা অধিকার ও সমতার ধারণাকে নারীদের জীবনে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে বাংলালিংকের ‘হিফরশি’ (He4She) উদ্যোগের বিজয়ীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ পর্বে বাংলালিংকের একজন কর্মীর বাবা তাঁর মেয়ের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সমঅধিকার বিষয়ে সচেতনতা ও এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মানসিকতা অনেক সময়ই পরিবার থেকেই গড়ে ওঠে, এই উদ্যোগে সেই বিষয়টিই তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলালিংক উইমেনস নেটওয়ার্ক–এর চলমান কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়। বিদায়ী কমিটির সদস্যদের তাদের অসামান্য অবনাদের জন্য স্বীকৃতি জানানো হয় এবং ২০২৬ সালের জন্য নতুন কমিটিকে স্বাগত জানানো হয়। সপ্তাহব্যাপী নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলালিংক।

spot_img
আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

সর্বাাধিক পঠিত

spot_img