সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার ও মিডিয়া ইন্টিগ্রিটি নিশ্চিত করতে এক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্র্যাকটিক্যাল এআই অ্যান্ড মিডিয়া ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপ উইথ অনার এআই’। জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ড অনার (অনার বাংলাদেশ) কর্মশালাটির পৃষ্ঠপোষকতা করে।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করপোরেট ট্রেইনার ডন সামদানি ফ্যাসিলিটেশানের চিফ ইনস্পিরেশন অফিসার গোলাম সামদানি ডন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি- বিশেষ করে এআই সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রিপোর্টিং আরও বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী হবে। এতে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী অনলাইনে প্রকাশিত খবরের প্রায় ৭০ শতাংশই ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর। এ কারণে সাংবাদিকদের আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি।
কর্মশালায় ডিপফেক শনাক্তকরণ, কনটেন্ট যাচাই এবং এআইনির্ভর টুল ব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদ তৈরির নানা দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় গোলাম সামদানি ডন দেখান, কীভাবে এআই সাংবাদিকদের কাজের গতি বাড়াতে, প্রোডাকটিভিটি উন্নত করতে এবং কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি অনারের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাতে-কলমে বিভিন্ন বাস্তব কৌশল উপস্থাপন করা হয়। ভবিষ্যতে আসতে যাওয়া এআই ফিচার নিয়েও আলোচনা হয়, যা সাংবাদিকতার কাজকে আরও সহজ ও স্মার্ট করে তুলবে বলে জানান তিনি।
বিআইজেএফ সভাপতি হিটলার এ. হালিম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের জন্য এআই সম্পর্কে জানা বিলাসিতা নয়; বরং প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষার জন্য এটি অপরিহার্য।’
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন অনার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার মুজাহিদুল ইসলাম এবং হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা সাংবাদিকতায় এআইয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং অনারের উদ্ভাবন কীভাবে সাংবাদিকদের কর্মদক্ষতা ও কনটেন্টের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারে-তা তুলে ধরেন।
বিআইজেএফ-এর জ্যেষ্ঠ সদস্য মেহেদী হাসান পলাশও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
