নব্বইয়ের দশকে স্মার্টফোনের যাত্রা শুরু হয়েছিল আইবিএম সাইমনের হাত ধরে। এ স্মার্টফোনের উদ্দেশ্য ছিলো দ্রুততম সময়ে ক্যালেন্ডার দেখা, ফ্যাক্স ও ইমেইল পাঠানো। মোবাইল ফোনে প্রথম ব্যাক ক্যামেরা যুক্ত করা হয় একবিংশ শতকের প্রথম দশকে। যার মাধ্যমে ফ্যামিলি ফটোগ্রাফ বা গ্রুপ ফটোগ্রাফের ট্রেন্ড শুরু হয়। এরপর বাজারে একে একে আরও উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল হ্যান্ডসেট আসতে শুরু করে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এসএমএস পাঠানো, ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ করা, গান শোনা, গেম খেলার মতো সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। তখনো মোবাইল ফোনে ব্যাটারি পাওয়ার নিয়ে ততো বেশি চিন্তাভাবনা শুরু হয়নি।
এখন যুগ বদলেছে। সেই সাথে বদলেছে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন। এখন মোবাইল ফোনের ব্যবহার কেবল ক্যালেন্ডার দেখা, যোগাযোগ করা বা গান শোনার মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই। পড়াশোনা, কাজ, কন্টেন্ট বানানো, ছবি তোলা, বিল পে করা ও বিনোদন সবকিছুর সাথেই এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার জড়িত। এই পরিবর্তিত চাহিদার কারণেই স্মার্টফোনে বড় ব্যাটারি থাকা এখন আর কোনো আকর্ষণীয় স্পেসিফিকেশন নয়। বরং, এটি একটি আবশ্যিক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিনের স্মার্টফোন ব্যবহারের সাথে সাথে শক্তিশালী ব্যাটারির চাহিদাও দিন দিন বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে, ব্যাটারির কাছ থেকে পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা। স্মার্টফোনে কেবল বেশি মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি পাওয়ার থাকাই আর যথেষ্ট নয়; বর্তমানে ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে এমন ব্যাটারি চান, যেখানে সুবিশাল ব্যাটারি সক্ষমতা, ফাস্ট চার্জিং ও দীর্ঘসময় ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাটারি অভিজ্ঞতার সমন্বয় থাকবে। প্রতিদিনের কাজ, পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস, ভ্রমণ, ট্র্যাকিং, গেমিং বা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এখন ব্যাটারি পাওয়ার সক্ষমতা থাকা অত্যাবশ্যক; যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে চাওয়ামাত্র ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
ব্যবহারকারীদের চাহিদার সাথে তালমিলিয়ে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোও এখন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছে। দ্রুততম চার্জিং স্পিড, বড় মাপের ব্যাটারি সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যাটারির অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে ব্র্যান্ডগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাটারি উদ্ভাবনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে, এতে রিভার্স চার্জিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এয়ারবাডস, স্মার্টওয়াচের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস খুব সহজেই চার্জ দিতে পারছেন। একটি স্মার্টফোনে ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকায় বাকি ছোটখাটো অ্যাপ্লায়েন্সে চার্জ করা নিয়ে এখন আর দুশ্চিন্তা করা লাগছে না। এভাবে একটি স্মার্ট ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে, যা ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের জীবনকে আরও সহজ করার পাশাপাশি, সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
স্মার্টফোনে ব্যাটারি পারফরম্যান্সের এই অনন্য অভিজ্ঞতার উপযুক্ত উদাহরণ হতে পারে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ। সিরিজটি ব্যাটারি সক্ষমতা, ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিংয়ের অসাধারণ একটি মেলবন্ধন হতে যাচ্ছে। ১০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত ব্যাটারি সক্ষমতা, সিলিকন কার্বন ব্যাটারি, ১০০ ওয়াট পর্যন্ত হাইপারচার্জের সমন্বয়ে সিরিজটি ব্যাটারি উদ্ভাবন ও পারফরম্যান্সের নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। ব্যবহারকারীরা নিশ্চিন্তে প্রতিদিনের কাজ, গেমিং, অফিসের হেভি ওয়ার্ক, অনলাইন ক্লাস, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি ও মাল্টিটাস্কিংয়ের সুযোগ পাবেন।
মূলত, ব্যবহারকারীদের বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা আর প্রযুক্তি নির্ভরতার সাথে তালমিলিয়ে স্মার্টফোনের ব্যাটারি প্রযুক্তি আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স, ফাস্ট চার্জিং ও নির্ভরযোগ্যতা, এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আধুনিক ব্যাটারি অভিজ্ঞতা এখন একটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের কাজের সাথে তালমিলিয়ে চলতে কতটা কার্যকরী তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। আগামী দিনের স্মার্টফোন কেবল শক্তিশালী নয়, বরং ব্যবহারকারীর জীবনযাত্রার প্রকৃত সঙ্গী হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে চলেছে।
