শব্দ দূষণ রোধে কাজ করছে এবং পাঁচ জন হিরো চালককে পুরস্কৃত করলো উবার

Uber

বাংলাদেশে পথ চলার পাঁচ বছর উদযাপন উপলক্ষে  শব্দ দূষণ কমিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলো উবার। এর জন্য তারা চালকদের দায়িত্বশীলভাবে হর্ন বাজাতে উদ্বুদ্ধ করবে। স্বাস্থ্যের ওপর শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নভেম্বরের ২৩ তারিখকে ‘নো হংকিং ডে’ (হর্নমুক্ত দিবস) হিসেবে পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথম আলোর আয়োজনে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করেন ঢাকার শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদগণ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের উপ পরিচালক মোঃ জিয়াউল হক, সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ট্রাফিক (দক্ষিণ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং উবার কর্মকর্তারা।

‘নো হংকিং ডে’ উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিল উবার। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা অনুসারে, দিনের বেলায় ঢাকার নীরব এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা ৫০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় ৫৫ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় ৬০ ডেসিবেল। যদিও, বাস্তবে এই মাত্রা ১২০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়, যার কারণে ঐসব এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নানা জটিলতা দেখা দেয়।

উবার ইতোমধ্যে চালকদের মধ্যে দায়িত্বশীলভাবে হর্ন বাজানো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার লাগাবে এবং গাড়ির ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নানা উপকরণ প্রদর্শন করবে।

উবারকে তাদের এই প্রতিজ্ঞার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন, “শব্দ দূষণ এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উবারের সমর্থন পেয়ে আমি আনন্দিত। এই উদ্যোগ অন্যদেরও উৎসাহিত করবে। উদ্যোগটিতে অংশগ্রহণ করার জন্য উবারকে ধন্যবাদ।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “শব্দ দূষণ ও দায়িত্বশীলভাবে হর্ন বাজানো নিয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে উবারকে পার্টনার হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত। নিজেদের প্ল্যাটফর্মের অংশীদারদের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে সমর্থনের জন্য তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।”

বাংলাদেশে তাদের পাঁচ বছর উপলক্ষে প্রথমবারের মতো হিরো ড্রাইভার পার্টনার (হিরো চালক) অ্যাওয়ার্ডসের কথাও ঘোষণা করেছে উবার। উবারের যাত্রায় তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানানো ও উদযাপন করাই এই পুরস্কারের লক্ষ্য। এ বছর তিনজন গাড়ি চালক এবং দুইজন মটো চালককে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের প্রত্যেককে নগদ ২৫,০০০ টাকা এবং একটি করে ট্রফি দেওয়া হয়। সেরা পারফরম্যান্স, সর্বোচ্চ রেটিং, সেবার মান এবং মহামারিকালীন সার্ভিসের ভিত্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত চালকরা হলেন:

১। অসাধারণ সার্ভিস, ১৪,৩৮৩টি ট্রিপ সম্পন্ন করা এবং ৪.৯২ রেটিংয়ের জন্য মোঃ মিলন।

২। দুর্দান্ত সেবার মান ও যাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং ৪.৮২ রেটিং নিয়ে ১৮,৪৯১টি ট্রিপ সম্পন্ন করার জন্য মোঃ কুদ্দুস মিয়া।

৩। মহামারিকালীন জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ট্রিপ সম্পন্ন করে কোভিড হিরো হওয়া এবং ৪.৯৫ রেটিং নিয়ে ৯,৩৯৩টি ট্রিপ সম্পন্ন করার জন্য মোঃ সজীব হোসেন।

৪। ৪.৯১ রেটিং নিয়ে সর্বোচ্চ ৯,৪৫৭টি উবারমটো ট্রিপ সম্পন্ন করার জন্য মোঃ মোস্তফা কামাল।

৫। অসাধারণ সেবার মান ও যাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং ৪.৯৩ রেটিং নিয়ে ৬,৬৫৮টি ট্রিপ সম্পন্ন করার জন্য মোঃ জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশে পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষ উবারের বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারত প্রধান মোঃ আরমানুর রহমান বলেন, “গত পাঁচ বছরে নিজেদের অর্জন এবং সমাজের সবার কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার কারণে আমরা গর্বিত। আমাদের যাত্রা মাত্র শুরু হচ্ছে এবং সামনের বছরগুলোতে আরো অনেক মাইলফলক উদযাপন করার জন্য আমরা উন্মুখ হয়ে আছি। বাংলাদেশ পৃথিবীতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের শব্দ দূষণ রোধের প্রতিজ্ঞা, টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং জীবিকার ব্যবস্থা করা—এসব আমাদের প্রতিজ্ঞার ক্ষুদ্র কয়েকটি অংশ। আমাদের প্ল্যাটফর্মের প্রত্যেক চালক ও যাত্রীকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কেননা তাদের সাহায্য ছাড়া আমাদের পক্ষে এত দূর আসা সম্ভব হতো না।”

ফ্রি রাইডগুলোর কারণে এই কঠিন সময়ে উবারের প্ল্যাটফর্মে চালকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার বাংলাদেশির জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে এবং দেশের উন্নয়নে সাহায্য করতে উবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

*

*