ব্যবসায়িক সফলতায় ফলদায়ক যোগাযোগ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

BCS PR

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সদস্যদের বিসিএস স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ভলিউম ১৭ এর বাস্তবায়নে ব্যবসায়িক সফলতায় ফলদায়ক যোগাযোগের ভূমিকা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে ‘সিক্রেটস অব ইফেকটিভ কমিউনিকেশন ফর দ্য ‍সাকসেস অব বিজনেস’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।

২৬ মে বুধবার সন্ধ্যায় অনলাইনে এই প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর। তিনি বলেন, বিসিএস সর্বদা সদস্যদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসার ধরণও বদলে যাচ্ছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গ্রাহক, ভোক্তা এবং সেবা গ্রহণকারী সবার সঙ্গেই যোগাযোগের নির্দিষ্ট কিছু সূত্র রয়েছে। দুই পক্ষের সংযোগ ঘটলেই কেনা বেচা হয়। প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ীদের জন্য এই কর্মশালাটি সময়োপযোগী।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণার এক চমৎকার যোগাযোগের উদাহরণ। ব্যবসায়িক চর্চায় যোগাযোগের যে ভূমিকা রয়েছে তা শুধু প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সবার জন্য অনুকরণীয়। সরকার নিজেও প্রায় ৭ হাজার সার্ভিস ডেলিভারি করে। কর্মশালার প্রধান আলোচক যেভাবে বলেছেন, তা অনুসরণ করলে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন সহজ হবে বলে আমি আশাবাদী।

বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এর সমন্বয়ক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, বিপিসি এবং বিসিএস এর উদ্যোগে আজকের কর্মশালাটি আইসিটি ব্যবসায়ীসহ আমাদের জন্যও বেশ উপকারী। বিসিএস ভবিষ্যতে প্রযুক্তি পণ্য  উৎপাদন এবং বিপণনের উপর কর্মশালা আয়োজন করতে পারে। আমদানি নির্ভর না হয়ে রপ্তানীতেও আমরা সফলতা অর্জন করবো। যুগোপযোগী বিষয়ে বিসিএস এর এই আয়োজনকে আমি সাধুবাদ জানাই।

বিসিএস ‍উপদেষ্টা এবং দ্য এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবু বলেন,  বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যোগাযোগের বিষয়টি আমরা তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষে এসে উপভোগ করি। নতুন শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতো তখন আমরা তাদের জীবনের লক্ষ্যের একটি প্রতিচ্ছবি দেখাতাম। সেখান থেকেই সে জীবনের সিদ্ধান্ত নিতো। কমিউনিকেশন বা যোগাযোগকে আমরা নিউরো সায়েন্স বলতে পারি। তাই যোগাযোগের ব্যাপারটা শারীরিকের চেয়ে অনেকাংশে মনস্তাত্ত্বিক। এজন্যই আমরা আমাদের স্লোগান বলেছি, সংবাদ নয় সংযোগ। আমরা দেখাচ্ছি সংবাদ কিন্তু আক্ষরিক অর্থে আমরা দর্শকদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে চাচ্ছি।

রায়্যান আইটি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আহমেদ হাসান জুয়েল বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে ভৌত অবকাঠামো এবং গ্রাহকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে একজন বিক্রয়কর্মী তার সবগুলো ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে গ্রাহককে পণ্যের ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারেন। কিন্তু ই-কমার্সের ক্ষেত্রে শুধু পণ্যের বৈশিষ্ট্য দিয়ে গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে হয়। আমি মনে করি ই-কমার্স ফিজিক্যাল ব্যবসার সঙ্গে আক্ষরিক অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাস্তবে ই-কমার্স ব্যবসাকে প্রভাবিত করছে। আমরা ই-কমার্সকেও যোগাযোগের উদাহরণ হিসেবে তুলনা করতে পারি।

এক্সেল টেকনোলজিস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব গৌতম সাহা বলেন, ব্যবসার সবকিছু যদি এক পাশে রাখি আর যোগাযোগকে যদি আরেক পাশে রাখি তাহলে মূলত বিজনেস ইজ নাথিং উইদআউট কমিউনিকেশন। একজন নেতা তখনি সফল হন, যখন তার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবাই সাবলীল হন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্ব প্রস্তুতি থাকা উচিৎ। যার সাথে যোগাযোগ হচ্ছে এবং যা জানানোর জন্য সংযোগ হচ্ছে সে ব্যাপারে আগের প্রস্তুতি নিজেকে সহজভাবে উপস্থাপিত করার সহায়ক।

বিসিএস যুগ্ম-মহাসচিব মো. মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন এর সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালাতে প্রধান আলোচক হিসেবে ‍উপস্থিত ছিলেন মাইন্ড মেপার বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান প্রশিক্ষক জনাব এজাজুর রহমান। অনলাইনে প্রায় চার শতাধিক বিসিএস সদস্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বিসিএস এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত হয়। এসময় প্রায় ১ হাজার দর্শনার্থী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপভোগ করেন।

 ব্যবসায়িক সফলতার জন্য ফলদায়ক যোগাযোগের কৌশল উল্লেখ করে এজাজুর রহমান বলেন, যোগাযোগকে আমরা নিউরো ল্যাঙ্গুয়িস্টিক প্রোগ্রামিং বা এনএলপি বলতে পারি। মানুষের শারীরিক অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে যোগাযোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে আই কন্টাক্ট গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগকালীন সময়ে কি ধরণের যোগাযোগ গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে পারে সেটাও বুঝার চেষ্টা করা ব্যবসার একটি অংশ। মনে রাখতে হবে মাইক্রোসফট, ফেডএক্স অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটকালীন সময়ে যাত্রা শুরু করে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তই ইতিবাচক হিসেবে ধারণা রাখতে হবে। আপনার পণ্যের কি বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার চেয়ে গ্রাহকের কী দরকার সে বিষয়ে গুরুত্ব দিলে ফলপ্রসু ব্যবসায়িক লেনদেন হওয়া সম্ভব। প্রয়োজন, আগ্রহ এবং চাহিদা এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় করতে পারলে ব্যবসায়িক যোগাযোগে সফলতা আসে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক সফলতার জন্য অনুসরণীয় যোগাযোগের মডেল  এবং যোগাযোগের মূলমন্ত্র মেনে ব্যবসার সফলতা আনতে কী কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়ে দর্শনার্থীদের একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি টেকজুমডটটিভি এর সৌজন্য বিসিএস এর ফেসবুক পেইজে সম্প্রচারিত হয়েছে।

*

*