তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। টানা চার ঘণ্টাব্যাপী সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত মত প্রকাশের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।
সভাপতি হিটলার এ হালিম সভাপতিত্বে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন।
বার্ষিক সব কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনে সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান বলেন, নির্বাহী কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা, বৈঠকের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অংশগ্রহণমূলক করা ছাড়াও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান বলেন, বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিত সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সারাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। আইসিটি ঘরানার সব সংগঠন এখনও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। বিআইজেএফ-ও এ সংকটের বাইরে নয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সর্বোত্তম চেষ্টা ছিল কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কমিটিতে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে ছয়জন ছিল নতুন মুখ। নিজেদের প্রথম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের পদকে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান করা। এতে সাধারণ সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়। সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নসহ ইন্ডাস্ট্রিতে সংগঠনের ইনক্লুশনে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ করছে।
বিধি অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ সময়ের অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। আর্থিক প্রতিবেদনে উপস্থাপনে তিনি বলেন, হিসাব-নিকাশে যথাসাধ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান কমিটি আর্থিক লেনদেনের বেশিরভাগ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পাদন করেছে। সব ধরনের হিসাব-নিকাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিপিবদ্ধ। আর্থিক লেনদেন সমর্থিক জরুরি কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা শেষে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে উপস্থিত সদস্যরা অনুমোদন করেন। বিদ্যমান নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এনকে রয় অ্যান্ড কোং দিয়ে পরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যদের উপস্থিতিতে কণ্ঠভোটে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়।
সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, বর্তমান নির্বাহী কমিটি সাংগঠনিক সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে। সদস্যদের মত প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপে সমালোচনার সুযোগ ছিল উন্মুক্ত। চলতি কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ও নিয়মিত আয়োজন সম্পন্ন করতে সচেষ্ট। বিআইজেএফকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত ও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক সব কাজ করেছে ইসি। ভবিষ্যতে নির্বাহী কমিটিতে যারা আসবেন, তারা যেনো এমনই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন সেই প্রত্যাশাই করছি।
সদস্যের অধিকাংশই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বার্ষিক সাধারণ সভায় তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রত্যাশার ব্যক্ত করেন। সদস্যরা যথাযথ আর্থিক প্রতিবেদন, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাহী কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সদস্যদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিবিধ আলোচ্যসূচিতে সংগঠনকে ক্রিয়াশীল, সমৃদ্ধ ও ইন্ডাস্ট্রিবান্ধব করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সদস্যরা। সংগঠনের স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে হয় উন্মুক্ত আলোচনা।
সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম অংশ নেন।



