Wednesday, March 18, 2026
spot_img
Homeইভেন্টসফল আয়োজন, সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা

সফল আয়োজন, সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা

চার দিনের জমজমাট আয়োজন শেষে পর্দা নামল ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬–এর। সফল আয়োজন শেষে আগামীতে আরও বড় পরিসরে ও আরও আকর্ষণীয় মেলার আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বেচাকেনা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি-দুটো নিয়েই তারা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

মেলায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক দর্শনার্থী নিবন্ধন করে প্রবেশ করেন। শেষ দিন শনিবার সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলা ছিল উপচে পড়া দর্শকে পরিপূর্ণ। সন্ধ্যার পর কোনো স্টল কিংবা প্যাভিলিয়নে ফাঁকা জায়গা চোখে পড়েনি।

মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এবারের আয়োজনে বিক্রয় প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে এ ধরনের মেলা ক্রেতা ও বিক্রেতা-উভয়ের জন্যই কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম। আগামী দিনে আরও বড় আয়োজন নিয়ে অংশগ্রহণের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) মহাসচিব ও ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ এর আহ্বায়ক মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আইসিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে। এই মেলায় আইসিটি বিভাগের আর্থিক সহায়তা থাকে।

তিনি বলেন, মেলার পরিকল্পনার শুরুতেই আইসিটি বিভাগ প্রদর্শনীটি কেমন হবে তা দেখতে চায়। সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী পুরো আয়োজন সাজানোর হয়।

তিনি আরও বলেন, “মেলা নিয়ে আইসিটি বিভাগের সবার মুখে আমরা হাসি দেখেছি-এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই আমাদের সাফল্য।” মেলা পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল হাসান-সবাই মেলার সার্বিক আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর আহ্বায়ক বলেন, মেলা চলাকালে তিনি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা শুধু মেলায় পণ্য বিক্রির মাধ্যমেই সন্তুষ্ট নন; বরং ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য সুফল পেয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান এই মেলাকে নিজেদের পণ্য ও ব্র্যান্ড পরিচিতি তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন।

দর্শনার্থীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুরো প্রদর্শনীতে প্রায় তিন লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। শুরুতে তিন লাখ দর্শনার্থী মেলায় আসবে-এমন প্রত্যাশা ছিল। যদিও পুরোপুরি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে সংখ্যাটি প্রত্যাশার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান টেকটাইমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিব আরাফাত বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছি। ছয় বছর পরে এধরনের মেলা আবার হলো। আয়োজকদের কাছে আবেদন জানাব এধরনের মেলা বছরে দুইবার আয়োজন করা হোক। এতে করে ক্রেতাদের এনগেজমেন্ট বাড়বে।

অনার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিজনেস হেড আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাড়া খুবই ভালো। দামি ফোন ভালো যাচ্ছে। কম দামি ফোন প্রথম দুই দিনেই শেষ হয়ে গেছে।

ডিএক্স গ্রুপের অন্যতম পরিচালক লিটন বিশ্বাস জানান, তার প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। তিনি বলেন, আমরা খুবই খুশী। ভবিষ্যতে এরকম মেলা আরও চাই।

লেনোভো ল্যাপটপের চ্যানেল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার প্রতাপ সাহা বলেন, সাড়া ভালো। অনেক দিন পরে মেলা হওয়ায় দর্শক সমাগম ছিল সন্তোষজনক। বিক্রির পাশাপাশি ব্র্যান্ডিংটা অনেক ভালো হয়েছে। আমরা অনেক কোয়েরি পেয়েছি। অনেকে প্রোডাক্টের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এসার ল্যাপটপের চ্যানেল কনসালটেন্ট (কমার্শিয়াল বিজনেস) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, এসার ল্যাপটপ নিয়ে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। আমাদের ব্র্যান্ডিংটা ভালো সাড়া ফেলেছে। ল্যাপটপ বিক্রির অনেক ফরমায়েশ পেয়েছি।

spot_img
আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

সর্বাাধিক পঠিত

spot_img