Home ই-গভর্নেন্স ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায়

ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায়

স্কুলে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সহজে শনাক্ত করতে না পারার ঝুঁকির কারণে প্রভাবিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সহপাঠীদের মাধ্যমে হওয়া ক্ষতি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে হওয়া হয়রানি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফের সহায়তায় ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি নতুন বৈশ্বিক ‘সেফগার্ডিং টুলকিট’ চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো স্কুলগুলোতে ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা, পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরক্ষার একটি অভিন্ন চর্চা গড়ে তোলা।

এই সংকটের গভীরতা বর্তমানে বেশ স্পষ্ট। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১৫ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল বা তার আশেপাশে সহপাঠীদের কাছে কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ইউনিসেফ ও আইটিইউ-এর তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু। ফলে অনলাইনে শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকি আগের চেয়ে বেড়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি সাতজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে, যা প্রায়ই স্কুলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত।

তবে মূল সমস্যাটি কেবল সচেতনতার নয়, বরং নীতিমালার সঠিক প্রয়োগের। অনেক স্কুলেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য লিখিত নীতিমালা থাকে, কিন্তু দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই ভিন্নতা দেখা যায়।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘সুরক্ষা কেবল কারও ব্যক্তিগত অনুমান বা বিশেষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে পারে না। এটি মূলত প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভূমিকা, তথ্যের সঠিক নথিবদ্ধকরণ এবং স্বচ্ছ ধাপগুলো বজায় রাখা জরুরি। এতে সমস্যাগুলো শুরুতেই ধরা পড়বে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এই টুলকিটটি মূলত স্কুলের সুরক্ষা নীতিকে প্রতিদিনের অভ্যাসে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে।’

ইউনিসেফ স্পেনের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার আলমোদেনা ওলাগুইবেল বলেন, ‘সেফগার্ডিং টুলকিটটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইউনিসেফের এক অভিন্ন উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করে—কার্যকর সুরক্ষা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সময়ে সুরক্ষা‑সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো যত জটিল এবং কম দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, ততই প্রস্তুতি, স্পষ্টতা এবং স্কুল সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সম্মিলিত দায়িত্ববোধঅত্যন্তঅপরিহার্য হয়ে উঠছে।’

স্কুলের প্রাত্যহিক ব্যবহারের জন্য তৈরি টুলকিটটি ব্যক্তিগত বিচার-বুদ্ধির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। এটি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বগুলো আরও পরিষ্কার করবে, তথ্যের সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করবে এবং যৌথভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথনির্দেশনা তুলে ধরবে। এ ছাড়া শিশুদের সুরক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণের বিষয়গুলোকে এখানে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো যেহেতু এখন বাস্তব জগতের পাশাপাশি অনলাইন জগতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, এই টুলকিটটি স্কুলগুলোকে আরও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ঝুঁকি যেমন- অনলাইন গ্রুমিং, হয়রানি, জালিয়াতি এবং এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় সহায়তা করবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বড় আকার ধারণ করার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি দিকনির্দেশনা দেবে।

বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগী ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি স্কুলে এই টুলকিটটি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী সরাসরি সুরক্ষার আওতায় আসবে। স্থানীয় আইন ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রাখতে স্কুলগুলোকে সহায়তা করবে।

টুলকিট ডাউনলোডঃ https://internationalschools.britishcouncil.org/safeguarding-toolkit-for-schools

Exit mobile version