স্যামসাং বাজারে নিয়ে এসেছে গ্যালাক্সি এম২০

samsung m20

প্রযুক্তি দুনিয়ায় তাল মেলাতেই আমরা ব্যস্ত সবাই। প্রতিনিয়তই আমরা নিত্য-নতুন প্রযুক্তি খুঁজে বেড়াই। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তিগত ফিচার আমরা স্মার্টফোনে খুঁজে বেড়াই। বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করছে সেরা ডিভাইসটি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে।  স্মার্টফোনকে সব কাজে পারদর্শী করতে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। এখন কম্পিউটারের অনেক কাজই স্মার্টফোনে সম্পন্ন করা যায়। শুরুতে মোবাইল ফোন শুধুমাত্র কথা বলার জন্যই ব্যবহার করা হতো। আর এখন, কথা বলার বিষয়টি হচ্ছে পুরো স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি ছোট্ট অংশ। যোগাযোগের মাধ্যমগুলো অনেকটাই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে পড়েছে।

পারদর্শীতার দিক থেকে বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডগুলো সবসময় চেষ্টা করে বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ডিভাইসটি তৈরি করার। এরই ধারাবাহিকতায় মিলেনিয়ালসদের জন্য স্যামসাং বাজারে নিয়ে এসেছে গ্যালাক্সি এম২০। স্মার্টফোনের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিৎ করতেই দক্ষিণ কোরিয়ার এই টেক জায়ান্ট মাত্র ১৫,৯৯০ টাকায় ডিভাইসটি দেশের বাজারে ছেড়েছে।

চলার পথে হঠাৎ অফিস থেকে যখন কল আসে আর তখন এমন কোনো তথ্য পাঠানো জরুরি হয়ে পড়ে যে তা এক্সেল ফাইল থেকে খুঁজে বের করতে হবে। ব্যবহারকারী হয়তো তখন নেটফ্লিক্সে বা অন্য কোনো ভিডিও ষ্ট্রিমিং সাইটে একটি সিরিজ দেখছে। সেই মূহুর্তে তা বিরতি দিয়ে অনলাইনে এক্সেল ফাইল ওপেন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে তৎক্ষণাত তা পাঠিয়ে দেয়ার কাজটি অনায়াসে করে ফেলা কিন্তু দক্ষ মোবাইলের মাধ্যমেই করতে হবে সেই ব্যবহারকারীকে। সে কিন্তু ততক্ষণে ঠিকই বিরতিতে রেখে আসা সিরিজটি আবার দেখা শুরু করে দিয়েছে। গ্যালাক্সি এম২০ ব্যবহারকারীকে এভাবেই কাজ ও বিনোদন সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনন্য এক অভিজ্ঞতা দেবে। বর্তমান সময়ে মোবাইলে মাল্টিটাস্কিং-এর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলার পথেই অনেকগুলো কাজ একইসময়ে করতে হয় ব্যবহারকারীদের। সেসময় যদি স্মার্টফোনটি ঠিকভাবে কাজ না করে তবে তা হয়ে ওঠে দূর্বিসহ। এক্ষেত্রে গ্যালাক্সি এম২০-এর ১.৮ গিগাহার্টজ অক্টা-কোর প্রসেসর, ৩ জিবি র‌্যাম এবং ৩২ জিবি রম দেবে ভাবনামুক্ত মাল্টিটাস্কিং।

পুরো বিশ্ব এখন মেতে ভিডিও ষ্ট্রিমিং-এ। আগের মতো টিভি সেটের সামনে বসে এখন কেউ আর পছন্দের শো দেখে না বললেই চলে। চলতে চলতে স্মার্টফোনেই শো দেখে নিচ্ছে ব্যবহারকারীরা। গ্যালাক্সি এম২০-এর ৬.৩ ইঞ্চির ইনফিনিটি-ভি ফুলএইচডি+ ডিসপ্লেতে ষ্ট্রিমিং-এর অভিজ্ঞতা আসলেই চমৎকার। দেখার আনন্দ দ্বিগুণ করে এর ৯০% স্ক্রিন-টু-বডি ডিসপ্লেটি। পাশাপাশি ডিভাইসটি ওয়াইডভাইন এল১ সনদপ্রাপ্ত, যা নিশ্চিৎ করে এইচডি ষ্ট্রিমিং কন্টেন্টের ভরপুর বিনোদন। গ্যালাক্সি এম২০ ডলবি এটমস অডিও সিস্টেম ব্যবহারকারীকে দেয় ৩৬০ ডিগ্রি সারাউন্ড সাউন্ডের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা।

নিরাপত্তার বিষয়টি এখন গুরুত্বের সাথে বিবেচরা করে থাকে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা। ফলে ডিভাইসটিতে উন্নত প্রযুক্তির ফেস আনলক সুবিধাসহ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ফিচার বিদ্যমান রেখেছে স্যামসাং। স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার আক্রান্তের হার অনেক বেশি। আর তাই হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি সফটওয়্যারেও স্যামসাং মুনশীয়ানা দেখিয়েছে। যেকোনো ধরনের ম্যালওয়্যার আক্রামণ থেকে ব্যবহারকারীকে নিরাপদে রাখে স্যামসাং-এর ডিভাইস কেয়ার ফিচার।

বাজেটের মধ্যে প্রধান ফিচারগুলো মনের মতো করে পেতে গ্যালাক্সি এম২০-তে ডুয়েল লেন্সের ব্যাক ক্যামেরা দিয়েছে স্যামসাং। সবাইকে এক ফ্রেমে বন্দি করতে ডিভাইসটির ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে ১২০ ডিগ্রি আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ডিভাইসটির সামনের ক্যামেরার ইন-ডিসপ্লে ফ্ল্যাশ ও সেলফি ফোকাস ব্যবহারকারীকে দেবে ছবি তোলার পূর্ণ আনন্দ।

ব্যবহারকারীরা কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহার করতে চান সহজ ও সাবলিলভাবে। আর এর জন্যে গ্যালাক্সি এম২০-তে ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং এক্সপেরিয়েন্স ৯.৫। সফটওয়্যারের সঙ্গে হার্ডওয়্যারের চমৎকার সমন্বয় করা হয়েছে ডিভাইসটিতে। আর তাই ৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির এই ফোনটির ব্যাটারি খরচ হয় অনেক কম। কর্মব্যস্ত মানুষের হাতে এখন সময় এতটাই কম যে, মোবাইল চার্জ দেয়ার সময় বের করা সম্ভব হয় না বললেই চলে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে গ্যালাক্সি এম২০-তে ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি এবং টাইপ-সি পোর্ট যুক্ত করা হয়েছে।

পরিশেষে এটাই বলতে হয় যে, দেশের বাজারে গ্যালাক্সি এম২০ সকলের নজর কেড়েছে। উন্নত বিল্ড কোয়ালিটি, পর্যাপ্ত কার্যকরী ফিচার, স্যামসাং-এর বিক্রয় পরবর্তী গ্রাহকসেবা বা স্মার্ট সার্ভিস সুবিধা এবং আকর্ষণীয় দামের বিচারে ডিভাইসটি মিলেনিয়ালসদের জন্য আদর্শ একটি স্মার্টফোনে পরিণত হয়েছে।

*

*