প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী আমাদানিকৃত মোবাইল ফোনের দাম দ্বিগুন হবে

smart phone

স্মার্টফোন কিনতে গেলে বাড়তি কড়ি গুনতে হবে। এমনটাই আশঙ্কা করছে স্মার্টফোন প্রেমীরা। কারন বাজেট ঘোষণায় স্মার্টফোনে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।  শুধু কি স্মার্টফোন ! না ফিচার ফোনও বাড়তি টাকায় কিনতে হবে। কারন এতেও মোট আমদানি ‍শুল্ক দিতে হবে ৩৪ শতাংশ।

অনেকের মতে স্মার্টফোনে সরকারের নতুন শুল্ক আরোপ এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্রেতাদের মোবাইল ফোন কিনতে হবে বেশি দামে। সরকারের শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে দেশে মোবাইল ফোনের প্রবৃদ্ধি কমবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ উদ্যোগ যাবে পিছিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমবে। গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হবে। তারা অবৈধ পথেই ফোন আনতে বেশি উৎসাহী হবে বেশি লাভের আশায়।

আসা যাক বাজেট অনুযায়ী স্মার্টফোনের হিসাব। অগ্রীম ভ্যাট (এটিভি) ৫ শতাংশ ও উন্নয়ন কর (গবেষণা ও উন্নয়ন) ৩ শতাংশ ধার্য করায় ভ্যাট, অগ্রমী কর, সারচার্জ ইত্যাদি মিলিয়ে স্মার্টফোন আমদানিতে কর দিতে হবে ৫৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। মোট করের সঙ্গে আরও যুক্ত হবে আমদানিকারকের বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, অবকাঠামোগত খরচ ও মুনাফা। সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ, ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় ১০০ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, গত বছর দেশে মোবাইল আমদানি হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ। এর বেশির ভাগই ফিচার ফোন। স্মার্টফোনের সংখ্যা মোট আমদানি হাওয়া ফোনের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। আর অবৈধ পথে দেশে এসেছে এক কোটিরও বেশি মোবাইল ফোন। অবৈধ পথে আসা ফোনের সংখ্যা আমদানি হওয়া মোট ফোনের বাইরেই থেকে যায়। যা থেকে সরকার রাজস্ব পায় না।

তারা আরও বলছেন, গ্রে মার্কেটের আকার বড় হয়ে যাওয়ায় ২০১৮ সালে সরকার এই খাত থেকে ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই বছরে এর পরিমাণ হবে এক হাজার কোটি টাকার মতো।

আমদানিকারকদের পর্যক্ষেণ, এই খাতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। স্মার্টফোনের দাম বেড়ে গেলে তা বিক্রিতে প্রভাব ফেলবে। বিক্রি কমে গেলে কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, নতুন ব্র্যান্ডগুলো দেশে মোবাইল কারখানা স্থাপনে আরও অন্তত ২ বছর সময় দেওয়া হোক। এই সময়ের মধ্যে ব্র্যান্ডগুলো দেশে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা ও বাজার তৈরি করে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়।

আমদানিকারকরা মনে করেন, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে দেশে অবৈধ পথে মোবাইলের প্রবেশ বাড়বে। এতে করে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার হতে পারে। অন্যদিকে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। বর্ধিত কর আরোপের ফলে আমদানিও কমবে। ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলোও মোটা অংকের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে বলে তাদের দাবি।

সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে বাজেটের প্রভাব এখনও স্মার্টফোন মার্কেটে পড়েনি। আগের দামেই স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে।

শাওমি বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, উচ্চ করআরোপের ফলে উন্নতমানের প্রযুক্তি আনা যেমন কঠিন হবে, তেমনি বাজারজাত ও গ্রাহকের আঙ্খাকার ও ঘাটতি ঘটবে। তিনি আরও বলেন, গত বছর শাওমি বাংলাদেশে এসেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাশ্রয়ী ও অনেস্ট প্রাইসে গ্রহকদের জন্য উন্নতমানের পণ্য আনতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের মি ভক্তদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোচ্চমানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে আসার প্রতি আমরা বিশ্বাসী। এই আমদানি কর আরোপ করা হলে বাজারে স্মার্টফোন আমদানির পাশাপাশি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন ঘটতে পারে। বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ যেটি বর্তমানে তার ডিজিটাল পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হতে পারে।

মোটোরোলা মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর স্মার্ট টেকনোলজিসের টেলিকম বিভাগের পরিচালক শাকিব আরাফাত রনি বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে (শুল্ক বৃদ্ধি) দেশে মোবাইল ফোনের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ উদ্যোগও পেছাবে, সরকারের রাজস্ব আয় কমবে বিপুল পরিমাণে এবং গ্রে মার্কেট আকার আরও বড় হবে। তিনি মনে করেন উদীয়মান ডিজিটাল বাংলাদেশে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ নয় যেটি ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাড়াঁয়।

*

*