ডিজিটাল প্লাটফর্মে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছে মেডিটক

health tips

স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয়- এমন অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই। করোনার সময় যা আরও বেড়েছে। অবশ্য ব্যক্তি উদ্যোগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এসব জটিলতা কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে মেডিটক ডিজিটাল একটি।

মেডিটক বিনামূল্যে মানুষকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে। ফলে ঘরে বসেই প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছে অনেক মানুষ। মেডিটক ডিজিটালের উদ্যোক্তাদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা জগতে এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে তাদের প্রতিষ্ঠান।

মেডিটক ডিজিটালের যাত্রা শুরু ২০১৯ সালের এপ্রিলে। মাত্র দেড় বছরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছেন উদ্যোক্তারা। এ কারণে মেডিটকের প্রতিদিনের লাইভগুলো দেখতে ফেসবুক ও ইউটিউবে যুক্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

শুরুর দিকে মেডিটক ডিজিটাল শুধু ইউটিউবে স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করতো। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে বেশ সাড়া পায় তারা, যার পুরস্কার হিসেবে মেডিটকের হাতে আসে ‘ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন’। তখন থেকে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

নতুন এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে আসে করোনা ভাইরাস। ফলে বাধ্য হয়ে স্টুডিও থেকে স্বাস্থ্যবিষয় অনুষ্ঠান তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এমনকি চিকিৎসকদের চিকিৎসকদের কর্মস্থলে গিয়ে ভিডিও শ্যুট করা থেকেও বিরত থাকতে হয়।

এরপর অনলাইনে লাইভের মাধ্যমে সরাসরি চিকিৎসকদের পরামর্শের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে মেডিটক। ব্যাপারটি এমন যে, প্রতিদিনই কোনও না কোনও বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসককে লাইভে আমন্ত্রণ জানানো হতো। লাইভে দর্শকরা কমেন্টের মাধ্যমে প্রশ্ন করতেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উত্তরও পেয়ে যেতেন, যা করোনার এই সময়ে খুব জরুরি ছিল।

ফেসবুক ও ইউটিউব লাইভে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক পরামর্শ প্রদান প্রসঙ্গে মেডিটক ডিজিটালের প্রতিষ্ঠাতা মো. রিয়াসাত আজিম ইভান বলেন, আগে আমরা দিনে ১টি লাইভ করতাম। এখন দিনে ৩ থেকে ৪টির মতো লাইভ অনুষ্ঠান করছি। এছাড়া মাঝে মাঝে স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস, ছবি ও ভিডিও আকারেও দিচ্ছি।

তার কথায়, এতে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি আমরা। ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/MediTalkDigital) ও ইউটিউব চ্যানেল (https://www.youtube.com/meditalkdigital) মিলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ মানুষ আমাদের ফলো করছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবের রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত আমাদের ভিডিওগুলো প্রায় ৫ কোটি মিনিট দেখা হয়েছে। ভিডিওতে থাকা প্রতিটি কথাই স্বাস্থ্যবিষয়ক এবং তা মানুষের উপকারের জন্য।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার সম্পর্কে রিয়াসাত আজিম বলেন, বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজ চলছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াটা মেডিটকের অন্যতম লক্ষ্য। চেষ্টা করছি ভিন্ন মাত্রার কিছু সেবা যুক্ত করতে। ইতোমধ্যে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। সেটা তৈরি হলে আরও সহজে সবার কাছে পৌঁছাতে পারবো।

*

*