জিডিপিতে স্টার্টআপের অবদান অব্যহত রাখতে নীতি সহায়তার দাবি জানিয়েছে ভিসিপিয়াব

GDP

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশি স্টার্টআপকে প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব)। স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে কাজ করা সংগঠনটি মাননীয় অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত ২০২০-২১ সালের জাতীয় বাজেট নিয়ে এক ভার্চুয়াল গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। ‘জিডিপিতে স্টার্টআপের অবদান বিষয়ক বাজেট আলোচনা’ শীর্ষক বৈঠকটি গত বৃহস্পতিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) এর সাথে যৌথভাবে আয়োজন করে সংগঠনটি। বৈঠকের সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান শামীম আহসান।

‘কোভিড-১৯ এর কারণে আমাদের ব্যবসায় এবং অর্থনীতি উভয়ই অভূতপূর্ব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সহায়তায় পরিচালিত আমাদের দেশের স্টার্টআপগুলো দেশের অর্থনীতি তে অবদান রাখছে। ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, জাপান এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হয় যা  কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকতে সাহায্য করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোকেও কর অব্যহতি, অনুদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং ইক্যুইটি বিনিয়োগের মাধ্যমে একই ধরণের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দেয়া প্রয়োজন যেন  তারা ভবিষ্যতে দেশের জিডিপি তে অবদান রাখতে পারে।  এই ব্যবসাগুলোকে রক্ষা করতে পারলে স্টার্টআপে কাজ করা ৭ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে। এই আহবানে সাড়া দিলে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচটি ইউনিকর্ন তৈরি এবং উদ্যোগী মূলধন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ছয় মিলিয়নেরও বেশি লোকের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব বলে জানান ভিসিপিয়াবের চেয়ারম্যান এবং পেগাসাস টেক ভেঞ্চারস এর জেনারেল পার্টনার শামীম আহসান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “কোভিড-১৯ এর ফলে আমাদেরকে প্রযুক্তি গ্রহণের দিকে নজর দিতে হচ্ছে, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এসব স্টার্টআপ কে সহায়তার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা উদ্যাক্তাদের টিকে থাকা ও ব্যবসায় সহজ করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতে কাজ করবো”।

বিশেষ অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরেই উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপে নজর দিয়ে আসছে, কারণ সেটি আমাদের ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার অন্যতম পন্থা। আমরা আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরণের ব্যবসায়ের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছি।  স্টার্টআপ বাংলাদেশ তার অ্যাক্সেলারেটর প্রোগ্রাম এবং স্টার্টআপ ফান্ডের মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে সহায়তা করছে। আমরা আগামীতেও যাতে স্টার্টআপগুলো বেড়ে উঠতে পারে তার জন্য নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যহত রাখবো।

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শিবলি রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালে বিএসইসি অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট রুলস অনুমোদন দেয়। এই রুলসের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই অনেক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি কোম্পানি গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনেকগুলো বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করছে। তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারগুলো আইপিওর মাধ্যমে স্টার্টআপের নির্গমণ (এক্সিট) সম্ভাবনা বাস্তবায়ন এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী পেতে সহায়তা করে। আমরা আমাদের স্টার্টআপগুলোর আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সিস্টেম তৈরিতে অবশ্যই কাজ করবো।

বিশেষ অতিথি এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, “আমরা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সরকারের সাথে কাজ করছি। নির্দিষ্ট কারোনো খাত বা পণ্যের কথা বাদ দিয়ে আমরা দেশের সকল খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের অর্থনীতিতে যেসকল খাতে ভ্যালু চেইন রয়েছে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের স্টার্টআপ ভালো করছে এবং এসব স্টার্টআপকে নীতিগত সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ের সাথে যৌথভাবে ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এসব

 

কোম্পানির প্রবৃদ্ধিকে আমরা এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই, এর মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনীতিতে উচ্চতর মূল্যমান যোগ করতে পারবো।”

ভিসিপিয়াবের মহাসচিব শওকত হোসেন বলেন, নিবন্ধিত অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার জন্য সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ফান্ড তৈরি করতে পারে। প্রাইভেট এবং অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সম্মিলিত বিনিয়োগে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড খুবই কার্যকরী এবং সফল হবে। এছাড়া ১০ বছরের জন্য অল্টারনেটিভ ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে আয়কর থেকে অব্যহতি দেয়া যেতে পারে।

ভিসিপিই ফার্মকে তাদের কোর ব্যবসায় থেকে আয় করতে কমপক্ষে ১০ বছর সময় লেগে যায়। এর আগে আয় খুবই সীমিত হয় এবং সেটি দিয়ে শুধুমাত্র কোম্পানিকে কোনোভাবে চালিয়ে নেয়া যায়। এই ছোট্ট আয়ের উপর ট্যাক্স এআইএফএম খাতের জন্য খুবই প্রতিবন্ধকতামূলক হবে। অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার এখনও নাজুক অবস্থায় আছে। এছাড়া এআইএফএম ডিল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হাই নেট ওর্থ ইন্ডিভিজ্যুয়াল (এইচএনআই) দের আগ্রহী করতে এবং এআইএফএম খাতের প্রসারে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে বিএসইসি কর্তৃক সনাক্তকৃত এইচএনআই বিনিয়োগকারীদের ট্যাক্স অব্যহতি দেয়া যেতে পারে।

মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভিসিপিয়াব পরিচালক ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন বলেন, “দেশের ভেন্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শৈশব অতিক্রম করতে পারেনি। রাস্ট্রীয় নীতিমালার আলোকেই এই সেক্টর গড়ে উঠছে। তাই যুক্তি সংগত ভাবেই আমরা আশা করতে পারি সরকার সবসময়ই এই শিল্পের পাশে থাকবে। বিশেষ করে এই দু:সময়ে যদি সঠিক সহায়তা না দেয়া যায় তবে দীর্ঘ মেয়াদে মানবসম্পদ  ভিত্তিক এই শিল্প আমাদের জন্য খারাপ সংবাদ হয়ে দাঁড়াবে। করোনা বা অন্য কোন কিছুর অযুহাতে আমরা যদি প্রনোদনা না দিতে পারি তাহলে ১ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প ছোট হয়ে আসবে। বেকারত্ব বাড়বে। অর্থনীতির উপর চাপ বাড়বে । তাই পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই।”

ভার্চুয়াল বৈঠকটিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মজিবুল হক, প্রকল্প পরিচালক, আইডিয়া প্রকল্প; বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক; বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর; স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ উপদেষ্ঠা টিনা জাবিন, এফএনএস মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ, বিডিওএসএন এর সাধারন সম্পাদক মুনীর হাসান, ভিসিপিয়াবের ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া ইউ আহমেদ, বিল্ড বাংলাদেশের উপদেষ্টা আরস্ত খান, দৈনিক প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) এর নির্বাহী সদস্য সুজয় মহাজন, ইনফ্লেকশন ভেঞ্চারস লিমিটেডের অংশীদার তানভীর আলী, পাঠাও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন এম ইলিয়াস, স্টার্টআপ ঢাকার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালি, বাংলাদেশ এঞ্জেলসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মিনহাজ আনোয়ার, দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড এর নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার খান, দ্য ডেইলি স্টারের বিপণন প্রধান তাজদিন হাসান, সিএমজেএফ’র সভাপতি ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের আউটপুট এডিটর হাসান ইমাম রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ।

 

*

*