জমজমাট ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো

dell

দর্শনার্থীদের আগমনে জমজমাট হয়ে উঠেছে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’। ডিজিটাল পণ্য এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দেখতে শুধু ঢাকা নয়, রাজধানী ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থী এসেছেন। প্রযুক্তিপ্রেমিদের মিলনমেলাতে রুপ নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির এই বড় আসরটি। অংশ নেয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের বানানো রোবট, ডিভাইস প্রদর্শন করছে। কেউ কেউ পরিচয় করে দিচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে। তবে চলছে শেষদিনের প্রদর্শনী। আজ রাত ৮টায় পর্দা নামবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির বড় এই প্রদর্শনী আসরের।

আগ্রহ নিয়ে প্রযুক্তির এমন বড় আসরে এসেছে তাসলিম মিয়া। তিনি এমন আবিষ্কার আর উদ্ভাবনে অভিভূত। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা এই প্রদর্শনীতে না এলে কেউ বুঝতে পারবে না। তিনি জানান, ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোতে যা হচ্ছে আসলে এটাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রযুক্তিখাত এতো উন্নত হয়েছে তা চোখে না দেখতে বিশ্বাস হবে না। আর প্রদর্শনী জুড়ে মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আগমনও ভালো লাগছে না।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) চলছে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯’। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রজেক্ট, এটুআই এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রযুক্তিবান্ধব মানুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, নানা শ্রেণীপেশার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন ডিজিটাল পণ্য এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দেখতে। সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনী তবে প্রবেশের জন্য প্রদর্শনীর ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রদশর্নীর শেষদিনে থাকছে নানা ধরনের কর্মসূচি। রয়েছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং চারটি সেমিনার। এ ছাড়াও এক্সপোর তিনদিনের সার্বিক আয়োজন নিয়ে একটি সমাপনী অনুষ্ঠান এবং অ্যাওয়ার্ড নাইট অনুষ্ঠিত হবে।

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সালমান হাবিব। তিনি বানিয়েছেন রেস্তোরাঁয় কাজ করে এমন একটি রোবট। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের শিক্ষার্থীদের বানানো ‘স্মার্ট বাসা’ নামের এক যন্ত্র। এর সাহায্যে অ্যাপের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের যে কোনো জায়গা থেকে বাসাবাড়ির বাতি, ফ্যান, এসি সব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। স্মার্ট বাসা তৈরিতে খরচ হবে সাত হাজার টাকার মতো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর দল ফ্রাইডে ল্যাব। তারা রোবট ভালোবেসে উদ্ভাবন করেছেন বাংলায় কথা বলা হিউম্যানোয়েড রোবট ‘লি’। লি দেখতে অনেকটা মানুষের মতো। দুই পায়ে হাঁটতে পারে, বাংলা ভাষা বুঝতে পারে, কথা বলতে পারে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এমনকি মানুষের চেহারা মনে রাখতেও পারে। লি মানুষের সঙ্গে করমর্দন করে, স্যালুট দেয়।

এ ছাড়াও ইলেকট্রনিক যন্ত্র নির্মাতা বাই-বিট লিমিটেড মেলায় এনেছে তাদের নতুন যন্ত্র পালস ইলেকট্রন ম্যাগনেটিক ফ্লিড। এটি ব্যথা দূর করার একটি যন্ত্র। বেল্টের মতো করে যন্ত্রটি বাঁধা থাকলে এটি শরীরের রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যথা কমে যায়। ঘাড় ও কোমরের ব্যথা নিরসনে এটি কাজ করবে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। এর দাম আট হাজার টাকা। মেলায় সাড়ে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এটি। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ঐন্তিলা বিশ্বাস ও তার দল বানিয়েছেন লঞ্চ পর্যবেক্ষণের যন্ত্র।

আয়োজকরা জানান, মেলায় দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দিয়ে শীর্ষ নতুন উদ্যোগ খুঁজে পেতে মেলার আগে মাসব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচারমূলক কার্যক্রম চালানো হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ৩০টি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয় মেলায়। আর প্রদর্শনী শেষ হলে তরুণদের শীর্ষ ১০ উদ্যোগকে ১০ লাখ করে মোট ১ কোটি টাকা বঙ্গবন্ধু উদ্ভাবনী অনুদান (বিআইজি) দেয়া হবে।

বিসিএসের সভাপতি মো. শাহিদ-উল মুনীর বলেন, ‘আমরা যা আশা করেছি তার চেয়েও বেশি সাড়া পেয়েছি। এই মেলায় ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের সঙ্গে দর্শকেরা পরিচিত হচ্ছেন। দেশে তৈরি যন্ত্র ও উদ্ভাবন নিয়ে এই আসর আমরা সফল করতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

প্রদর্শনীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট ‘লি’। ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯ এর প্লাটিনাম স্পন্সর ওয়ালটন। গোল্ড স্পন্সর ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স। যৌথভাবে সিলভার স্পন্সর সিম্ফনি এবং ডিবিবিএল। প্রদর্শনীর ফোরজি এলটিই পার্টনার বাংলালায়ন। এডিএন টেলিকম, বাংলাদেশ টেকনো সিটি লিমিটেড, ডাহুয়া, ডেল, এইচপি, হিকভিশন, ইউসিসি এক্সপোর পার্টনার। গেমিং পার্টনার গিগাবাইট। ই-কর্মাস পার্টনার প্রিয়শপ ডটকম।

দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯ এর নলেজ পার্টনার। এক্সপোকে সফল করার জন্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য), সিটিও ফোরাম, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), বাংলাদেশ ওম্যান ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এবং বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।

*

*