ক্ষুদে মাথায় বড় উদ্ভাবন

biggan utsab

ক্ষুদে মাথায় বড় উদ্ভাবনে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূুর্ত অংশগ্রহণে শেষ হল প্রথমবারের মত আয়োজিত বিজ্ঞান উৎসব।

রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মাঠে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক মাসিক পত্রিকা বিজ্ঞান-চিন্তার যৌথ আয়োজনে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দিনজুড়ে নানা অনুষ্ঠান এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবের সমাপনী ঘোষণা করা হয়।

খুব সাধারাণ একটা বাক্সে চুম্বকের সাহায্যে ফ্যান ঘোরানো, লেজার লাইট জ্বালানো, মোবইল স্ট্যান্ড সহ আরো নানান সুবিধা যুক্ত করে উদ্ভাবনী প্রকল্প বানিয়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী লাবিবুর রহমান, দ্বিতীয় হয়েছে বরিশাল জেলা স্কুলের দশম শ্রেণীর তিন শিক্ষার্থী আহাদুল ইসলাম, সামিন আহমেদ ও নাফিস মাহমুদ এবং তৃতীয় হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর তিন শিক্ষার্থী সৈয়দ সাদ বিন হায়াত, মো: মাস্ফি জুনায়েদ ও সুলতানা সারওয়াত।

কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে মাধ্যমিক গ্রুপে ইন্টারন্যাশনাল গ্রামার স্কুলের জান্নাতি আক্তার, খুলনা জিলা স্কুলের মো: তাহমিদ খান এবং ব্লুবার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওয়াকিয়া রহমান। নি¤œ মাধ্যমিক গ্রুপের বিজয়ীরা হলো বরিশাল জিলা স্কুলের ধ্রুব ম-ল, নারায়নগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের জারিফ আহমেদ এবং খুলনা জিলা স্কুলের এস এম আব্দুল ফাত্তাহ।

বিজয়ী দলগুলো পেয়েছে বিকাশের সৌজন্যে ল্যাপটপ, বই, ট্রফি সহ আরো অনেক পুরস্কার।

সকালে পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কামাল কাদীর, চিফ এক্সটারনাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অবঃ) শেখ মোঃ মনিরুল ইসলাম, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আরশাদ মোমেন এবং বিজ্ঞান চিন্তার সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম সহ আরো অনেকে।

গাছ না কেটেই কিভাবে রাস্তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে, বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য ইশারা ভাষায় ইংরেজি অনুবাদকারী যন্ত্র, ছবি আঁকতে পারে এমন রোবট, পুলিশের জন্য লাইসেন্সবিহীন গাড়ি সনাক্তকারী স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, কম খরচে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্পিকার, ব্যাটারি দিয়ে সহজে বহনযোগ্য পানি সেচের পাম্প -এমন আরো অনেক আবিস্কারে আগামী প্রজন্ম তাদের বিজ্ঞানমনস্কতার প্রমাণ দিয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল ঢাকায় বিজ্ঞান উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সারাদেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে আঞ্চলিক পর্বের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫০টি স্কুলের ১২০০’র অধিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ক্ষুদে শিক্ষার্থী নানা সমস্যা সমাধানে বা আরো সুচারুভাবে নানা কল্যাণমূলক কাজের সহায়ক প্রকল্প তৈরি করে তাদের ক্ষুদে মনের ভাবনাগুলো থেকেই। বিজ্ঞান উৎসবের সবগুলো আয়োজন মিলিয়ে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০০ প্রকল্প প্রদর্শিত হয়।

কুইজ পর্বেও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বিজ্ঞান প্রকল্পে এবং কুইজে আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই, ল্যাপটপ এবং ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

এবারের জমকালো সমাপনী পর্বে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিল রোবট শো। গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব একাই দাবা খেলেন ১০ শিক্ষার্থীদের সাথে। ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব, ম্যাজিক শো, জলের গানের পরিবেশনা সহ মনোমুগ্ধকর আয়োজন।

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ‘বিজ্ঞানে বিকাশ’ স্লোগান নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবের সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।

ব্র্যাক ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানি ইন মোশন, বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের অর্ন্তগত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং অ্যান্ট ফিনান্সিয়াল এর যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিকাশ, ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত পেমেন্ট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে আসছে।

*

*