করোনায় ফ্রিল্যান্সারদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় শিখবে সবাইয়ের পরামর্শ

korona freelenser
করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। অনেক শহর বন্ধ করে দিতে হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ এবং অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অনেকে বাসায় বসে অফিস করছেন এবং বাসায় বসে ক্লাস করছেন। এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা কিছুটা নিরাপদ অবস্থায় আছেন। তারা আগে থেকেই বাসায় বসেই কাজ করছেন কিন্তু এই ভাইরাসকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। গবেষকরা ভাইরাসটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সারদেরও কয়েকটি বিষয় খেয়াল করে মেনে চলা প্রয়োজন।
শিখবে সবাইয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আবদুল কাদের ফ্রিল্যান্সারদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সারদের পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘুম খুবই প্রয়োজন সব মানুষের জন্য। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকে এবং করোনার মত ভাইরাস মোকাবেলার জন্য শরীরে ভালো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা জরুরি। ফ্রিল্যান্সারদের সারাদিন কাটে বিভিন্ন গ্যাজেটের সঙ্গে। প্রতিদিন নিয়ম করে সব গ্যাজেট এন্টিসেপটিক বা ভালো ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার রাখা উচিত। শুধু গ্যাজেট নয়, ওয়ার্কপ্লেস বা যে রুমে বসে কাজ করেন, সেটি সব সময় পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে। ফ্রিল্যান্সারদের ফাস্ট ফুড বা রেডি ফুড অনেক প্রিয় হয়। এটি যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যায় ততো ভালো। বাসায় রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত এবং খাবারের মেন্যুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক সবজি এবং আমিষ রাখতে হবে। অসুস্থ হলে বাহিরে যাওয়া ঠিক হবে না। বাইরে গেলে পরিষ্কার হয়ে যাওয়া এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালো মতো পরিষ্কার করে নিজের ঘরে এসে উচিত। হাঁচি-কাশি থাকলে মাস্ক পরে থাকা উচিত। টিস্যু ব্যবহার করে নির্ধারিত ময়লার বাক্সে ফেলা উচিত। ঝুঁকিপুর্ণ বা অসুস্থ মানুষের কাছে হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। ফ্রিল্যান্সার রা অনলাইনে অনেক সক্রিয় থাকেন, সর্বদা জেনে বুঝে সঠিক তথ্য শেয়ার করতে হবে। ভুল তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে অনেকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। আতঙ্কিত না হয়ে নিজে সচেতন এবং সতর্ক থাকতে হবে তাহলেই এ ভাইরাস থেকে নিজেদের সুস্থ রাখা সম্ভব।’
করোনায় ফ্রিল্যান্সারদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ শ্রেয়। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকলে এর বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব। ফ্রিল্যান্সাররা বিশাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অংশ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তারা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদের কাজের মাধ্যমে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিসকের পরামর্শ নেয়া, সেলফ কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা এই সাবধানতাগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। নিজেরা মেনে চলার পাশাপাশি তাদের সুযোগ রয়েছে এই বার্তাগুলো অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রয়েছে এই মহামারী মোকাবেলায়।’

*

*